উদ্বেগের সময় ৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং পদ্ধতি

কাজের চাপের মাঝে গ্রাউন্ডিং অনুশীলন করছেন একজন বাংলাদেশি তরুণ

বাসে বসে হঠাৎ বুক ধড়ফড় করছে, হাত ঠান্ডা, মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটবে। এ সময় “শান্ত হও” বলা সাধারণত কাজ করে না। গ্রাউন্ডিং চিন্তার সঙ্গে তর্ক না করে মনোযোগকে বর্তমান পরিবেশের নির্দিষ্ট অনুভূতিতে ফিরিয়ে আনে।

গ্রাউন্ডিং কী—এবং কী নয়

এটি উদ্বেগের মূল কারণের চিকিৎসা নয় এবং গুরুতর শারীরিক লক্ষণকে “শুধু প্যানিক” ধরে নেওয়ার উপায়ও নয়। এটি কয়েক মিনিটের একটি স্থিতি-ফেরানো কৌশল, যাতে পরবর্তী নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

শুরু করার আগে

সম্ভব হলে বসুন বা দেয়ালে ভর দিন। পা মাটিতে রাখুন। গাড়ি চালানোর সময় বা রাস্তা পার হওয়ার সময় অনুশীলন করবেন না—তখন পুরো মনোযোগ নিরাপত্তায় রাখুন।

৫—দেখুন

পাঁচটি আলাদা বস্তু খুঁজুন এবং মনে মনে বিস্তারিত বলুন: “নীল পর্দা, গোল ঘড়ি, কাঁচের গ্লাস…” শুধু নাম নয়, রং বা আকারও লক্ষ্য করুন।

৪—স্পর্শ অনুভব করুন

চেয়ারের চাপ, পায়ের নিচের মেঝে, কাপড়ের বুনন, হাতে ধরা ফোনের তাপমাত্রা—চারটি অনুভূতি চিহ্নিত করুন। অস্বস্তিকর শরীরের অংশে না গিয়ে নিরপেক্ষ স্পর্শ বেছে নিতে পারেন।

৩—শুনুন

কাছের, মাঝারি ও দূরের তিনটি শব্দ শুনুন। ঢাকায় এটি হতে পারে ফ্যান, মানুষের কথা এবং দূরের যানবাহন। শব্দ ভালো লাগতেই হবে না; শুধু উৎস ও দূরত্ব লক্ষ্য করুন।

২—গন্ধ খুঁজুন

চা, সাবান বা বাতাসের গন্ধ। কিছু না পেলে পরিচিত কোনো নিরাপদ গন্ধ কল্পনা না করে কাছের কাপড় বা হাতের স্বাভাবিক গন্ধ লক্ষ্য করুন।

১—স্বাদ বা সহায়ক বাক্য

এক চুমুক পানি নিন অথবা বলুন, “এই অনুভূতি তীব্র, কিন্তু অনুভূতি পরিবর্তিত হয়; এখন আমার পরবর্তী নিরাপদ কাজটি হলো বসে থাকা।” নিশ্চয়তা না দিয়ে বর্তমান সত্য বলুন।

শ্বাসে মন দিলে অস্বস্তি বাড়লে?

সবার জন্য শ্বাসের অনুশীলন আরামদায়ক নয়—বিশেষত প্যানিক বা ট্রমার অভিজ্ঞতায়। শ্বাস নিয়ন্ত্রণ বাদ দিন; চোখ খোলা রেখে ঘরের চারটি কোণ দেখুন, পা মাটিতে চাপুন এবং কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলুন।

একটি বাস্তব “গ্রাউন্ডিং কার্ড”

ফোনের নোটে লিখে রাখুন: (১) আমি কোথায় আছি, (২) আজকের তারিখ, (৩) কাকে ফোন করব, (৪) আমার জন্য কাজ করে এমন তিনটি ইন্দ্রিয়, (৫) জরুরি হলে কোথায় যাব। তীব্র মুহূর্তে নতুন করে ভাবতে হবে না।

চিকিৎসা মূল্যায়ন কখন?

প্রথমবার তীব্র বুকব্যথা, অজ্ঞান হওয়া, নতুন শ্বাসকষ্ট বা শারীরিক বিপদের লক্ষণ হলে জরুরি চিকিৎসা নিন। প্যানিক বারবার হলে, জায়গা এড়িয়ে চলা শুরু হলে বা দৈনন্দিন কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন

এই নিবন্ধটি সাধারণ শিক্ষা ও সচেতনতার জন্য। এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা পরামর্শ নয়।

মনে রাখুন: এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সাহায্য নিন। জরুরি বিপদে ৯৯৯-এ কল করুন।